শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়েও ফ্যাসিবাদ!

ফ্যাসিবাদের অনেক মন্দ দিক রয়েছে। তবে বড় দিকটি হলো, ফ্যাসিবাদ মানুষকে মানুষ থাকতে দেয় না। একদিকে মানুষের আত্মমর্যাদা লুন্ঠন করে অসহায় করে তোলে, অপরদিকে কিছু মানুষকে দানবে পরিণত করে। ফ্যাসিবাদ মানুষকে, সমাজকে সুস্থ থাকতে দেয় না। শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান মানুষও দূষণে, প্রলোভনে ভ্রষ্ট হয়ে যান। এ কারণেই হয়তো পত্রিকায় শিরোনাম হয়, ‘বাবা মন্ত্রী, ছেলে ঠিকাদার’। আওয়ামী লীগ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী থাকাকালে ইয়াফেস ওসমান তার মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি সংস্থায় ঠিকাদারির কাজ করেছেন তার ছেলে ইশরার ওসমান। ইশরারের প্রতিষ্ঠান সাইটেক কনসালটিং সলিউশন পরামর্শক হিসেবে কাজ পায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মন্ত্রীর অধীন প্রতিষ্ঠানে তারই ছেলের ঠিকাদারী কাজ করা স্বার্থের সংঘাত বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের একটি উদাহরণ।

সাইটেক কনসালটিং সলিউশনের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন ইশরারের বাবা ইয়াফেস ওসমান মন্ত্রী। ওয়েবসাইটে পরামর্শক হিসেবে দুটি কাজের কথা বলা হয়েছে। দু’টিই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থায়। একটি সংস্থা হলো বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এবং অন্যটি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি)। প্রাণীর জিন বিন্যাস বা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য এনআইবিতে ২০২১ সালে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের নকশা ও তদারকির কাজ দেওয়া হয় মন্ত্রীপুত্র ইশরার ওসমানের প্রতিষ্ঠানকে। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রীর ছেলেকে কাজ পাইয়ে দিতে সহায়তা করেন এনআইবি’র পরিচালক মো. সলিমুল্লাহ। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন জাগে, কে এই সলিমুল্লাহ?

এনআইবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে মো. সলিমুল্লাহকে জাপান থেকে ডেকে এনে এনআইবিতে সরাসরি প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেন মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। মাত্র এক বছর সাত মাসের মাথায় তিনি প্রতিষ্ঠানটির মাহপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদে নিয়োগ পান। এখনো তিনি ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ পালন করছেন। উল্লেখ্য যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা কোনো প্রতিষ্ঠানে চলতি দায়িত্ব বা অতিরিক্ত দায়িত্ব ছয় মাসের বেশি পালন করলে অর্থ বিভাগের সম্মতি নিতে হয়। কিন্তু মো. সলিমুল্লাহ অর্থ বিভাগের সম্মতি নেননি। ২০১০ সালে সাভারে সাড়ে à§§à§§ একর জায়গার ওপর এনআইবি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জীবপ্রযুক্তি বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান। 

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, টানা প্রায় ১০ বছর একটি প্রতিষ্ঠানে ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে মহাপরিচালক থাকার ঘটনা নজিরবিহীন। নজিরবিহীন এমন বহু ঘটনাই সম্ভব হয়েছে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার শাসনামলে। এখানে দুর্নীতি ছাড়াও আর একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তা হলো একটি চক্র গড়ে তোলা-পিতা, পুত্র ও সলিমুল্লাহর চক্র। ফ্যাসিবাদের এই চক্রে যুক্ত না হলে প্রতিভাবান পিতা-পুত্র হয়তো দেশের কল্যাণে ভালো কিছু করতে পারতেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ